Table of Contents

টাইফয়েড টিকা বিস্তারিত -২০২৬

মাস্ক পরিহিত একটি শিশু টিকা গ্রহণ করছে।

Table of Contents

বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য শিশু টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। এই রোগ প্রতিরোধে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দেশজুড়ে এক বিশাল টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV) সাধারণ টিকাদান কর্মসূচিতে (EPI) অন্তর্ভুক্ত করেছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা টাইফয়েড টিকা বিস্তারিত ২০২৬ এবং এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।


টাইফয়েড টিকা বা ভ্যাকসিন কী? (TCV)

টাইফয়েড জ্বর ‘স্যালমোনেলা টাইফি’ নামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়, যা সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। ২০২৬ সালে ব্যবহৃত টাইফয়েড ভ্যাকসিনের নাম হলো টিসিভি (Typhoid Conjugate Vaccine)। এটি টাইফয়েড প্রতিরোধের সবচেয়ে আধুনিক এবং কার্যকর টিকা, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক স্বীকৃত।


২০২৬ সালের নতুন ইপিআই (EPI) সিডিউল

২০২৫ সালের সফল ক্যাম্পেইনের পর, ২০২৬ সাল থেকে টাইফয়েড টিকা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।

টিকার নাম বয়স ডোজ পদ্ধতি
টিসিভি (TCV) ৯ মাস পূর্ণ হলে ১ ডোজ (একবারই যথেষ্ট) ইনজেকশন (মাংসে)

দ্রষ্টব্য: সাধারণত হাম-রুবেলা (MR-1) টিকার সাথেই শিশুদের টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়।


টাইফয়েড টিকা বিস্তারিত ২০২৬: কেন এই টিকা নেবেন?

১. কার্যকারিতা: গবেষণায় দেখা গেছে, টিসিভি টিকা প্রায় ৮৫% পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধে সক্ষম।

২. অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ: বর্তমানে টাইফয়েড জীবাণু অনেক শক্তিশালী হয়ে গেছে, যার ওপর সাধারণ ওষুধ কাজ করে না। টিকা নিলে এই ঝুঁকি কমে।

৩. নিরাপত্তা: এটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং গর্ভবতী নারী ছাড়া প্রায় সব বয়সের মানুষ (বিশেষ করে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী) এটি নিতে পারে।

৪. দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা: এই টিকার মাত্র ১টি ডোজ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করে।

টাইফয়েড ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অন্যান্য সাধারণ টিকার মতো টাইফয়েড ভ্যাকসিনেরও কিছু মৃদু ও সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে:

  • ইনজেকশনের জায়গায় সামান্য ব্যথা বা লাল হয়ে যাওয়া।

  • হালকা জ্বর (সাধারণত ১-২ দিন)।

  • শরীর ম্যাজম্যাজ করা বা মাথা ব্যথা।

  • ক্লান্তি অনুভব করা।

প্রো-টিপ: টিকা দেওয়ার পর যদি জ্বর আসে, তবে সাধারণ প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে এবং আক্রান্ত স্থানে হালকা গরম সেঁক দিলে ব্যথা দ্রুত কমে যায়।

টাইফয়েড টিকা নিবন্ধন পদ্ধতি ২০২৬

আপনি যদি ক্যাম্পেইনের সময় টিকা না দিয়ে থাকেন, তবে আপনার নিকটস্থ ইপিআই সেন্টারে যোগাযোগ করে আপনার শিশুকে টিকা দিতে পারেন।

  • নিবন্ধন ওয়েবসাইট: vaxepi.gov.bd

  • প্রয়োজনীয় তথ্য: শিশুর ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর।

  • কোথায় পাবেন: সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এই টিকা বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: একবার টাইফয়েড হলে কি এই টিকা নেওয়া যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, টাইফয়েড থেকে সুস্থ হওয়ার পর এই টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ একবার আক্রান্ত হওয়ার পর পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রশ্ন: টাইফয়েড টিকার দাম কত?

উত্তর: সরকারিভাবে সরকারি কেন্দ্রে এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। বেসরকারি হাসপাতালে দাম ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।

উপসংহার

টাইফয়েড টিকা বিস্তারিত ২০২৬ সম্পর্কে সচেতনতা আপনার পরিবারকে এই মারাত্মক রোগ থেকে দূরে রাখতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আশীর্বাদে এখন টাইফয়েডকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সময়মতো আপনার সোনামণিকে টিকা দিন এবং সুস্থ সমাজ গড়তে সহায়তা করুন।

About the Author

Picture of Dr. Afsana Haque Joty
Dr. Afsana Haque Joty

Dr. Afsana Haque Joty serves as a Senior Dental Surgeon at Tech Dental’s Mirpur branch, backed by over five years of clinical experience. An alumna of the University of Dhaka, she pursued advanced Post-Graduate Training (PGT) at Dhaka Dental College, specializing in Pediatric Dentistry as well as Oral & Maxillofacial Surgery. In addition to being BMDC registered (No. 11071), Dr. Joty has completed specialized training in Aesthetic Dentistry, ensuring she provides precise, high-quality dental care for patients of all ages.

Related Articles

A purple and white cylindrical tube of Cavic-C Plus effervescent tablets, featuring a lime-green cap and graphics, containing Calcium, Vitamin C, and Vitamin D3.
ক্যাভিক সি প্লাস: কাজ কি, খাওয়ার নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া – দাম ২০২৬

ক্যাভিক সি প্লাস হলো ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট গ্লুকোনেট, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট এবং ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) সমৃদ্ধ