জিহ্বায় ঘা হওয়া বা ‘মাউথ আলসার’ অনেকের কাছেই একটি পরিচিত সমস্যা। ভিটামিনের অভাব, পেট পরিষ্কার না থাকা, বা অসাবধানতাবশত জিহ্বায় কামড় লাগার কারণে এই ঘা হতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক ঔষধ ব্যবহার করলে এই যন্ত্রণা থেকে খুব দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
আজকের আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশে সহজলভ্য ও কার্যকরী কিছু জিহ্বায় ঘা এর ঔষধ এর নাম এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানবো।
জিহ্বায় ঘা কেন হয়? (Causes)
ঔষধের নাম জানার আগে কেন এই সমস্যা হয় তা জানা জরুরি:
-
ভিটামিনের অভাব: বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২, ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রনের অভাবে জিহ্বায় ঘা হয়।
-
হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা: কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের অসুখ থাকলে মুখে ঘা হতে পারে।
-
মানসিক চাপ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা অনিদ্রা আলসারের অন্যতম কারণ।
-
অ্যালার্জি: নির্দিষ্ট কোনো টুথপেস্ট বা খাবারের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে এমন হতে পারে।
-
ভাইরাস বা ছত্রাক: ওরাল থ্রাশ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলেও জিহ্বায় সাদাটে বা লালচে ঘা দেখা দেয়।
জিহ্বায় ঘা এর ঔষধ এর নাম (Medicines for Tongue Ulcer)
অবস্থা ভেদে ডাক্তাররা সাধারণত তিন ধরণের ঔষধ দিয়ে থাকেন। নিচে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামসহ দেওয়া হলো:
১. মুখে লাগানোর জেল (Topical Gels/Pastes)
এগুলো সরাসরি ঘায়ের জায়গায় লাগালে ব্যথা কমে এবং দ্রুত শুকিয়ে যায়।
-
Bongel / Bonjela (বঞ্জেল): এটি ব্যথানাশক এবং অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। (উপাদান: Cetalkonium Chloride + Choline Salicylate)
-
Cenolon (সেনোলন) / Trialon: এগুলো ডেন্টাল পেস্ট যা প্রদাহ কমাতে এবং ঘা শুকাতে জাদুর মতো কাজ করে। (উপাদান: Triamcinolone Acetonide)
-
Apsol (অ্যাপসল) / Amlex (অ্যামলেক্স): এগুলো আলসারের জন্য অত্যন্ত আধুনিক ঔষধ। (উপাদান: Amlexanox)
২. অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ঔষধ (যদি ছত্রাকজনিত ঘা হয়)
জিহ্বায় সাদা স্তর বা দইয়ের মতো আস্তরণ থাকলে বুঝতে হবে এটি ফাঙ্গাল ইনফেকশন।
-
Micoral (মাইকোরাল) / Gelora (গেলোরা): এটি একটি ওরাল জেল যা জিহ্বায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে গিলে ফেলতে হয়। (উপাদান: Miconazole)
৩. মাউথওয়াশ (Mouthwash)
মুখের ভেতর জীবাণুমুক্ত রাখতে মাউথওয়াশ ব্যবহার করা হয়।
-
Oryza (ওরাইজা): এটি ব্যথানাশক এবং অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ। (উপাদান: Benzydamine Hydrochloride)
দ্রুত আরাম পাওয়ার ঘরোয়া চিকিৎসা
ঔষধের পাশাপাশি আপনি বাড়িতেই কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন:
-
লবণ-পানির কুলকুচি: কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার কুলকুচি করুন।
-
মধু: খাঁটি মধু জিহ্বার ঘায়ের ওপর লাগিয়ে রাখলে ক্ষত দ্রুত সারে।
-
ডাবের পানি: পেট ঠান্ডা রাখতে এবং খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণে ডাবের পানি খুব উপকারী।
-
টক দই: এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া মুখের ঘা কমাতে সাহায্য করে।
প্রতিরোধের উপায়
-
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
-
সবুজ শাকসবজি এবং রঙিন ফলমূল বেশি করে খান।
-
বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।
-
শক্ত ব্রাশ ব্যবহার না করে সফট টুথব্রাশ ব্যবহার করুন।
-
অতিরিক্ত ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
সতর্কবার্তা
জিহ্বার ঘা যদি ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে এবং কোনোভাবেই না সারে, তবে অবহেলা করবেন না। এটি অনেক সময় বড় কোনো রোগের সংকেত হতে পারে। এমন অবস্থায় অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস্ট বা নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
উপসংহার
সঠিক জিহ্বায় ঘা এর ঔষধ এর নাম জেনে তা ব্যবহার করলে সাধারণত ৩-৫ দিনের মধ্যে আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তবে মনে রাখবেন, যেকোনো ঔষধ ব্যবহারের আগে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।


