ব্রেইন টিউমার নামটা শুনলেই আমাদের মনে এক অজানা আতঙ্ক ভর করে। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ এবং উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব। ব্রেইন টিউমারের লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতনতা থাকা আমাদের সবার জন্যই জরুরি। আজকের ব্লগে আমরা জানবো ব্রেইন টিউমারের সাধারণ ও বিশেষ কিছু লক্ষণ এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্রেইন টিউমার কী?
মস্তিষ্কের ভেতরে অস্বাভাবিক কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই ব্রেইন টিউমার বলা হয়। এটি মূলত দুই ধরণের হয়— বিনাইন (Benign) বা ক্ষতিকর নয় এমন, এবং ম্যালিগন্যান্ট (Malignant) বা ক্যানসারাস। টিউমার যে প্রকৃতিরই হোক না কেন, এটি মস্তিষ্কের ভেতরে চাপ সৃষ্টি করে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্ম দেয়।
ব্রেইন টিউমারের সাধারণ লক্ষণসমূহ
টিউমারের অবস্থান, আকার এবং এটি কতটা দ্রুত বাড়ছে তার ওপর ভিত্তি করে একেকজনের ক্ষেত্রে লক্ষণ একেক রকম হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো:
-
তীব্র মাথাব্যথা: এটি ব্রেইন টিউমারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। বিশেষ করে ভোরবেলা বা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা তীব্র হয়। কাশির সময় বা ব্যায়ামের সময় এই ব্যথা বাড়তে পারে।
-
খিঁচুনি (Seizures): যদি আগে কখনও খিঁচুনির সমস্যা না থাকে এবং হঠাৎ করে খিঁচুনি শুরু হয়, তবে তা ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।
-
বমি বমি ভাব বা বমি: বিশেষ করে মাথাব্যথার সাথে যদি সকালে কোনো কারণ ছাড়াই বমি হয়, তবে অবহেলা করা উচিত নয়।
-
দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন: হঠাৎ করে ঝাপসা দেখা, একটি জিনিসকে দুটি দেখা (Double vision) বা চোখের কোনো এক পাশে দেখতে সমস্যা হওয়া।
-
ভারসাম্যহীনতা: হাঁটতে গিয়ে টাল সামলানো বা শরীরের এক পাশে দুর্বলতা অনুভব করা।
মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন
মস্তিষ্ক আমাদের আবেগ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশে টিউমার হলে নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা দিতে পারে:
-
স্মৃতিভ্রম: খুব সাধারণ বিষয় দ্রুত ভুলে যাওয়া।
-
ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন: হঠাৎ করে খিটখিটে মেজাজ, বিষণ্ণতা বা স্বভাবের পরিবর্তন হওয়া।
-
কথা বলায় জড়তা: কথা বলতে গিয়ে শব্দ খুঁজে না পাওয়া বা অস্পষ্ট কথা বলা।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? (Red Flags)
মাথাব্যথা মানেই ব্রেইন টিউমার নয়, তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত একজন নিউরোলজিস্ট (Neurologist) দেখান:
যদি মাথাব্যথার ধরন হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যায়।
যদি মাথাব্যথার সাথে সাথে দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে।
হঠাৎ করে কানে কম শুনতে পাওয়া।
শরীরের কোনো এক পাশ অবশ বা নিস্তেজ অনুভব করা।
শেষ কথা
ব্রেইন টিউমার নির্ণয়ের জন্য সাধারণত MRI বা CT Scan এর প্রয়োজন হয়। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসার সফলতা অনেক বেশি থাকে। তাই সামান্য লক্ষণকেও অবহেলা না করে সচেতন থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।


