আমাদের শরীরের মূল কাঠামো হলো মেরুদণ্ড। হাঁটাচলা, বসা বা দাঁড়ানোর জন্য মেরুদণ্ড সুস্থ থাকা অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রায় মেরুদণ্ডের ব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কেন এই ব্যথা হয় এবং কখন এটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা নিয়ে আজকের বিস্তারিত আলোচনা।
মেরুদণ্ড ব্যথার প্রধান কারণসমূহ
মেরুদণ্ডের ব্যথা সাধারণত পেশি, হাড়, লিগামেন্ট বা স্নায়ুর সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. বসার বা শোয়ার ভুল ভঙ্গি (Bad Posture)
অধিকাংশ মানুষের ব্যথার মূল কারণ হলো ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা। বিশেষ করে কম্পিউটার বা মোবাইলের দিকে ঝুঁকে থাকা মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
২. ভারী বস্তু তোলা
হঠাৎ করে খুব ভারী কোনো কিছু ভুলভাবে তুললে মেরুদণ্ডের পেশি বা লিগামেন্টে টান লাগতে পারে। এর ফলে তাৎক্ষণিক তীব্র ব্যথা শুরু হয়।
৩. বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয়
বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানের ডিস্কগুলো শুকিয়ে যায় বা ক্ষয় হতে শুরু করে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বলা হয়।
৪. স্লিপড ডিস্ক বা পিএলআইডি (PLID)
মেরুদণ্ডের দুটি হাড়ের মাঝে জেলির মতো যে ডিস্ক থাকে, সেটি যদি বের হয়ে গিয়ে স্নায়ুর ওপর চাপ দেয়, তবে তাকে স্লিপড ডিস্ক বা হার্নিয়েটেড ডিস্ক বলে। এতে কোমর থেকে ব্যথা পায়ের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে
ব্যথার ধরণ অনুযায়ী কারণ (একনজরে)
| ব্যথার ধরণ | সম্ভাব্য কারণ |
| হঠাৎ তীব্র ব্যথা | পেশিতে টান বা লিগামেন্ট ইনজুরি |
| দীর্ঘস্থায়ী হালকা ব্যথা | বসার ভঙ্গি বা হাড়ের ক্ষয় |
| পা ঝিনঝিন করা বা অবশ ভাব | ডিস্কের সমস্যা বা স্নায়ুর ওপর চাপ |
| সকালবেলা শক্ত হয়ে থাকা | এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (এক ধরণের বাত) |
কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?
সব পিঠের ব্যথা সাধারণ নয়। নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (স্পাইন সার্জন বা ফিজিওথেরাপিস্ট) পরামর্শ নিন:
-
ব্যথা যদি টানা ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়।
-
ব্যথার কারণে যদি রাতে ঘুম ভেঙে যায়।
-
যদি এক বা দুই পা অবশ হয়ে যায় বা শক্তি না পান।
-
প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হলে।
-
পড়ে গিয়ে বা কোনো দুর্ঘটনার পর ব্যথা শুরু হলে।
মেরুদণ্ড ভালো রাখার উপায় (প্রতিরোধ)
১. সোজা হয়ে বসুন: চেয়ারে বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন এবং পা সমানভাবে মেঝেতে রাখুন।
২. নিয়মিত ব্যায়াম: মেরুদণ্ডের পেশি শক্ত করতে নিয়মিত স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করুন।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের অতিরিক্ত ওজন মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
৪. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি: হাড় মজবুত রাখতে দুধ, ডিম এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক (ভিটামিন ডি-র উৎস) গ্রহণ করুন।
বিশেষ নোট: দীর্ঘক্ষণ এক নাগাড়ে বসে থাকবেন না। প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর পর অন্তত ২ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন।


