পুরুষের বয়স ৫০ পার হওয়ার পর শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। এর মধ্যে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হওয়া বা BPH (Benign Prostatic Hyperplasia) অন্যতম। প্রোস্টেট হলো পুরুষদের প্রজননতন্ত্রের একটি ছোট গ্রন্থি যা মূত্রথলির নিচে থাকে। এটি বড় হয়ে গেলে মূত্রনালীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে প্রস্রাবের নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।
আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব প্রোস্টেট বড় হওয়ার লক্ষণ এবং এই সমস্যা অবহেলা করলে কী কী জটিলতা হতে পারে।
প্রোস্টেট বড় হওয়ার লক্ষণসমূহ (Symptoms of BPH)
প্রোস্টেট বড় হওয়ার লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। প্রধান লক্ষণগুলোকে আমরা সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করতে পারি:
১. প্রস্রাব শুরু ও শেষ করার সমস্যা
-
প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া: প্রস্রাবের বেগ থাকলেও বাথরুমে যাওয়ার পর প্রস্রাব শুরু হতে সময় লাগে।
-
দুর্বল ধারা (Weak Stream): প্রস্রাবের বেগ বা ফ্লো আগের মতো জোরালো থাকে না, বরং খুব ধীরগতিতে পড়ে।
-
প্রস্রাবের শেষে ফোঁটা পড়া (Dribbling): প্রস্রাব শেষ হওয়ার পরেও ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়তে থাকে, যা অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়।
২. প্রস্রাব ধরে রাখার সমস্যা (Storage Problems)
-
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া: বিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগে ঘুম ভেঙে যাওয়া (একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Nocturia বলা হয়)।
-
প্রস্রাবের তীব্র বেগ (Urgency): প্রস্রাব ধরলে তা বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায় না।
-
অসম্পূর্ণ প্রস্রাবের অনুভূতি: প্রস্রাব করার পরেও মনে হয় যে মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয়নি।
প্রোস্টেট বড় হওয়ার তীব্রতা (লক্ষণ টেবিল)
| লক্ষণের ধরণ | সাধারণ উপসর্গ | তীব্র উপসর্গ |
| প্রস্রাবের গতি | ধীরগতি বা মাঝপথে থেমে যাওয়া | প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে যাওয়া (Retention) |
| রাতের অবস্থা | ১-২ বার বাথরুমে যাওয়া | ৩ বারের বেশি যাওয়া ও ঘুমের ব্যাঘাত |
| ব্যথা ও অস্বস্তি | তলপেটে হালকা ভারি ভাব | প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা বা রক্ত আসা |
প্রোস্টেট কেন বড় হয়? (Causes)
প্রোস্টেট বৃদ্ধির সঠিক কারণ এখনো গবেষণাধীন থাকলেও চিকিৎসকরা প্রধান দুটি কারণকে দায়ী করেন:
-
বার্ধক্য: বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রোস্টেটের কোষগুলো প্রাকৃতিক নিয়মেই বাড়তে থাকে।
-
হরমোনের পরিবর্তন: শরীরে টেস্টোস্টেরন এবং ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্যের পরিবর্তন প্রোস্টেট বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
প্রোস্টেট বড় হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ এটি ক্যান্সার নয়। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ইউরোলজিস্ট (Urologist) দেখান:
-
যদি প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে যায়।
-
যদি প্রস্রাবের সাথে রক্ত দেখা যায়।
-
যদি প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া বা জ্বর থাকে (এটি ইনফেকশনের লক্ষণ)।
-
যদি তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়।
উপসংহার
প্রোস্টেট বড় হওয়ার লক্ষণগুলো চিনে রাখা অত্যন্ত জরুরি যাতে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা যায়। এটি বয়সের সাথে সাথে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও অবহেলা করলে কিডনি এবং মূত্রথলির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। সুস্থ থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সচেতনতার জন্য। যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে নিজে ঔষধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


