Table of Contents

কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ,লক্ষণ ও করণীয়: ২০২৬

মানুষের কিডনি পাথর এবং মূত্রতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ প্রদর্শনকারী একটি শিক্ষামূলক চিত্র।

Table of Contents

কিডনিতে পাথর বা Nephrolithiasis বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অপর্যাপ্ত পানি পান এবং শরীরচর্চার অভাবের কারণে দিন দিন এই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অনেক সময় ঔষধ এবং জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই পাথর অপসারণ করা সম্ভব।

আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণগুলো কী কী এবং পাথর শনাক্ত হলে আপনার দ্রুত করণীয় কি


কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণসমূহ

কিডনিতে পাথর হলে ব্যথা সব সময় শুরুতে বোঝা যায় না। পাথর যখন কিডনি থেকে নড়াচড়া করে বা মূত্রনালীর দিকে এগিয়ে আসে, তখনই মূলত উপসর্গগুলো তীব্র হয়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

  1. তীব্র পিঠ ও পাঁজরে ব্যথা: পিঠের নিচের দিকে বা পাঁজরের দুই পাশে অসহ্য ব্যথা হওয়া। এই ব্যথা প্রায়ই তলপেট বা কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

  2. প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া: পাথর যখন মূত্রনালী দিয়ে নামার চেষ্টা করে, তখন প্রস্রাব করার সময় তীব্র ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।

  3. প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন: প্রস্রাব ঘোলাটে হওয়া অথবা গোলাপি, লাল বা বাদামী রঙের প্রস্রাব হওয়া (রক্তের উপস্থিতির কারণে)।

  4. বারবার প্রস্রাবের বেগ: প্রস্রাব করার অল্পক্ষণ পরেই আবার প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছা হওয়া, কিন্তু পরিমাণে খুব কম হওয়া।

  5. বমি বমি ভাব ও বমি: ব্যথার তীব্রতায় অনেকের বমি বমি ভাব বা অনবরত বমি হতে পারে।

  6. জ্বর ও কাঁপুনি: যদি পাথরের সাথে ইনফেকশন থাকে, তবে রোগীর উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর আসতে পারে।


কিডনিতে পাথর কেন হয়?

পাথর হওয়ার প্রধান কারণ হলো প্রস্রাবে খনিজ উপাদান (যেমন ক্যালসিয়াম, অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিড) এর ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। ২০২৬ সালের আধুনিক গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত লবণ সেবন এবং কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় (Soft Drinks) কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি ২০% বাড়িয়ে দেয়।


কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি?

যদি আপনি বুঝতে পারেন যে আপনার কিডনিতে পাথর হওয়ার উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তবে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:

১. দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

ব্যথা কমানোর ঔষধ নিজে থেকে না খেয়ে একজন ইউরোলজিস্ট বা নেফ্রোলজিস্ট দেখান। পাথর নিশ্চিত করতে ডাক্তার সাধারণত USG of KUB অথবা NCCT Scan করার পরামর্শ দেন।

২. পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন

চিকিৎসকদের মতে, পাথর বের করার সবচেয়ে প্রাকৃতিক উপায় হলো প্রচুর পানি পান করা। দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করুন যাতে প্রস্রাবের প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং ছোট পাথরগুলো শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

৩. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন

কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি—এই প্রশ্নের উত্তরে ডায়েট সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

  • অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম খাওয়া বন্ধ করুন।

  • অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: পালং শাক, বিট, অতিরিক্ত বাদাম) সীমিত করুন।

  • প্রোটিন হিসেবে রেড মিট (গরু বা খাসির মাংস) এড়িয়ে চলাই ভালো।

৪. লেবুর রস পান করুন

লেবুতে থাকা ‘সাইট্রেট’ ক্যালসিয়াম পাথর জমতে বাধা দেয় এবং ছোট পাথর ভাঙতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা বেশ কার্যকর।

উপসংহার

কিডনিতে পাথর হওয়া মানেই বড় কোনো অপারেশন নয়। সঠিক সময়ে কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণগুলো চিনতে পারলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সাধারণ চিকিৎসায় এটি দূর করা সম্ভব। তবে মনে রাখবেন, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা জ্বরের ক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায়ের আশায় না থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্রুত পরামর্শ নেওয়া উচিত।


বিঃদ্রঃ: এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। আপনার শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

About the Author

Picture of Dr. Afsana Haque Joty
Dr. Afsana Haque Joty

Dr. Afsana Haque Joty serves as a Senior Dental Surgeon at Tech Dental’s Mirpur branch, backed by over five years of clinical experience. An alumna of the University of Dhaka, she pursued advanced Post-Graduate Training (PGT) at Dhaka Dental College, specializing in Pediatric Dentistry as well as Oral & Maxillofacial Surgery. In addition to being BMDC registered (No. 11071), Dr. Joty has completed specialized training in Aesthetic Dentistry, ensuring she provides precise, high-quality dental care for patients of all ages.

Related Articles

A purple and white cylindrical tube of Cavic-C Plus effervescent tablets, featuring a lime-green cap and graphics, containing Calcium, Vitamin C, and Vitamin D3.
ক্যাভিক সি প্লাস: কাজ কি, খাওয়ার নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া – দাম ২০২৬

ক্যাভিক সি প্লাস হলো ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট গ্লুকোনেট, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট এবং ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) সমৃদ্ধ