স্ক্যাবিস (Scabies) হলো এক ধরণের চর্মরোগ যা ‘সারকোপটেস স্ক্যাবি’ নামক অতি ক্ষুদ্র মাইট বা জীবাণুর সংক্রমণের কারণে হয়। এটি সাধারণত সরাসরি ত্বক বা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড় ব্যবহারের মাধ্যমে ছড়ায়। তীব্র চুলকানি এবং র্যাশ এর প্রধান লক্ষণ। আজকে আমরা জানবো স্ক্যাবিস দূর করার ঘরোয়া উপায় ও করনীয়ঃ সাহায্য করে।
স্ক্যাবিস বা চুলকানি দূর করার কার্যকরী ঘরোয়া উপায়
স্ক্যাবিস বা চুলকানি দূর করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললে এই অস্বস্তি কমিয়ে আনা সম্ভব । তা হলো
১. টি-ট্রি অয়েল (Tea Tree Oil)
টি-ট্রি অয়েলে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক উপাদান। এটি স্ক্যাবিসের জীবাণু ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর।
-
ব্যবহার পদ্ধতি: এক টেবিল চামচ টি-ট্রি অয়েল এবং এক টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে তুলো দিয়ে লাগান। দিনে দুইবার এটি ব্যবহার করতে পারেন।
২. নিম পাতা ও হলুদ (Neem and Turmeric)
বাঙালি ঘরে নিমের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে। নিমে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান চুলকানি কমায় এবং হলুদ জীবাণু নাশ করে।
-
ব্যবহার পদ্ধতি: তাজা নিম পাতা বেটে তাতে সামান্য হলুদের গুঁড়ো বা কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট পুরো শরীরে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।
৩. অ্যালোভেরা জেল (Aloe Vera)
অ্যালোভেরার অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণাগুণ ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং মাইট ধ্বংস করতে সহায়ক। এটি ত্বকের ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তোলে।
-
ব্যবহার পদ্ধতি: একদম তাজা অ্যালোভেরা জেল আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৪. লবঙ্গ তেল (Clove Oil)
গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ তেল স্ক্যাবিসের জীবাণু মারতে বেশ শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। তবে এটি সরাসরি ত্বকে না লাগিয়ে কোনো বাহক তেলের (যেমন: অলিভ অয়েল) সাথে মেশানো উচিত।
-
ব্যবহার পদ্ধতি: ১ চা চামচ লবঙ্গ তেলের সাথে ৪ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।
স্ক্যাবিস নিরাময়ে সতর্কতামূলক টিপস
শুধুমাত্র ঘরোয়া প্রতিকার যথেষ্ট নয় যদি আপনি সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলেন। স্ক্যাবিস বারবার ফিরে আসা রোধ করতে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:
-
গরম পানিতে কাপড় ধোয়া: আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত বিছানার চাদর, বালিশের কভার এবং পোশাক অন্তত ৬০° সেলসিয়াস তাপমাত্রার গরম পানিতে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন।
-
পরিবারের সবার চিকিৎসা: একজনের স্ক্যাবিস হলে পরিবারের বাকি সদস্যদের লক্ষণ না থাকলেও সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ এটি দ্রুত ছড়ায়।
-
নখ ছোট রাখা: চুলকানোর সময় নখের মাধ্যমে জীবাণু আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই নখ সবসময় ছোট রাখুন।
বিশেষ সতর্কবার্তা: ঘরোয়া উপায়গুলো প্রাথমিক পর্যায়ে বা উপশমে সাহায্য করে। যদি চুলকানি অত্যধিক হয়, ত্বকে পুঁজ জমে বা দুই সপ্তাহের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হয়, তবে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নিন।


