আমরা অনেকেই মনে করি বয়স বাড়লে মানুষ একটু আধটু ভুলে যাবেই। কিন্তু এই ভুলে যাওয়া যখন দৈনন্দিন জীবনকে অচল করে দেয়, তখন তাকে আমরা সাধারণ ‘বার্ধক্য’ বলে এড়িয়ে যেতে পারি না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ডিমেনশিয়া।
ডিমেনশিয়া আসলে কী?
ডিমেনশিয়া (Dementia) হলো মস্তিষ্কের এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষের স্মৃতিশক্তি, বিচারবুদ্ধি এবং ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন ঘটে। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং আলঝেইমার্স (Alzheimer’s) বা ভাস্কুলার ডিমেনশিয়ার মতো বিভিন্ন রোগের কারণে সৃষ্ট লক্ষণের সমষ্টি।
ডিমেনশিয়া রোগের প্রধান লক্ষণসমূহ
ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং সময়ের সাথে সাথে তা তীব্র হতে থাকে। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
১. স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া
-
সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনা বা তথ্য ভুলে যাওয়া.
-
একই কথা বারবার জিজ্ঞেস করা.
-
পরিচিত মানুষের নাম বা ঠিকানা মনে রাখতে না পারা.
২. দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা
-
দীর্ঘদিনের পরিচিত কোনো কাজের ধাপগুলো ভুলে যাওয়া (যেমন: রান্না করা বা জামাকাপড় পরা).
-
আর্থিক হিসাব মেলাতে হিমশিম খাওয়া.
৩. ভাষা ও যোগাযোগে সমস্যা
-
কথা বলার সময় সঠিক শব্দটি খুঁজে না পাওয়া.
-
অন্যের কথা বুঝতে সময় নেওয়া বা খেই হারিয়ে ফেলা.
৪. সময় ও স্থান নিয়ে বিভ্রান্তি
-
নিজের পরিচিত এলাকায় রাস্তা হারিয়ে ফেলা.
-
আজ কী বার বা এখন দিন না রাত—তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগা.
৫. মেজাজ ও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন
-
অকারণে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা খিটখিটে মেজাজ.
-
সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া বা আগে ভালো লাগত এমন কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা.
সাধারণ বার্ধক্য বনাম ডিমেনশিয়া: পার্থক্য কী?
| বৈশিষ্ট্য | সাধারণ বার্ধক্য | ডিমেনশিয়া |
| স্মৃতিশক্তি | মাঝে মাঝে চাবি বা নাম ভুলে যাওয়া। | নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ঘটনা ভুলে যাওয়া। |
| সিদ্ধান্ত গ্রহণ | মাঝে মাঝে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া। | বিচারবুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা লোপ পাওয়া। |
| কাজকর্ম | নতুন কোনো গ্যাজেট ব্যবহারে হিমশিম খাওয়া। | পরিচিত সাধারণ কাজ (যেমন- ফোন করা) করতে না পারা। |
| স্থান ও কাল | তারিখ ভুলে গেলেও পরে মনে পড়া। | ঋতু বা বছর সম্পর্কে ধারণা হারিয়ে ফেলা। |
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি দেখেন আপনার প্রিয়জন বা আপনার নিজের মধ্যে উপরের লক্ষণগুলো ক্রমাগত বাড়ছে, তবে দেরি না করে একজন নিউরোলজিস্ট বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এর তীব্রতা কমানো সম্ভব।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে ধৈর্য এবং ভালোবাসার সাথে সেবা করা জরুরি। তাদের এই পরিবর্তনগুলো ইচ্ছাকৃত নয়, বরং মস্তিষ্কের একটি জটিল অবস্থার ফল।


