Table of Contents

বাচ্চাদের খিঁচুনি হলে করণীয়

একটি অসুস্থ শিশু বিছানায় শুয়ে আছে এবং একজন বড় মানুষ তার কপালে একটি গোলাপি রঙের ভেজা কাপড় দিয়ে জলপট্টি দিচ্ছেন।

Table of Contents

বাচ্চার হঠাৎ খিঁচুনি দেখে ঘাবড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার শান্ত থাকা এবং সঠিক পদক্ষেপ বাচ্চার বিপদ অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। সাধারণত জ্বর, মস্তিষ্কে সংক্রমণ বা এপিলেপসির কারণে শিশুদের খিঁচুনি হতে পারে। আজকের ব্লগে আমরা জানব বাচ্চাদের খিঁচুনি হলে করণীয় এবং কোন কাজগুলো একেবারেই করা যাবে না।

১. খিঁচুনি চলাকালীন তাৎক্ষণিক করণীয় (First Aid)

বাচ্চার খিঁচুনি শুরু হলে নিচের ধাপগুলো দ্রুত অনুসরণ করুন:

  • শান্ত থাকুন: সবার আগে নিজে শান্ত হোন। আপনি আতঙ্কিত হলে বাচ্চাকে সাহায্য করতে পারবেন না।

  • নিরাপদ স্থানে শোয়ান: বাচ্চাকে শক্ত মেঝে বা সমতল জায়গায় একপাশে কাত করে শুইয়ে দিন।

  • আঘাত থেকে রক্ষা করুন: বাচ্চার আশেপাশে কোনো ধারালো বস্তু, আসবাবপত্র বা শক্ত কিছু থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন। মাথার নিচে নরম কিছু (যেমন- বালিশ বা কাপড়) দিন।

  • পোশাক ঢিলা করে দিন: বাচ্চার গলার কাছের বোতাম বা টাই থাকলে তা আলগা করে দিন যাতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।

  • সময় খেয়াল রাখুন: খিঁচুনি কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে তা ঘড়ি দেখে নোট করার চেষ্টা করুন। এটি ডাক্তারকে সঠিক চিকিৎসা দিতে সাহায্য করবে।

২. যা কখনোই করবেন না (Don’ts)

আমাদের দেশে খিঁচুনি নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। এগুলো বাচ্চার জন্য মারাত্মক হতে পারে:

  • মুখে কিছু দেবেন না: খিঁচুনির সময় বাচ্চার মুখে চামচ, আঙুল বা পানি দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এতে শ্বাসরোধ হতে পারে।

  • জোর করে থামানোর চেষ্টা করবেন না: বাচ্চার হাত-পা শক্ত করে ধরে খিঁচুনি থামানোর চেষ্টা করবেন না। এতে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

  • জুতো বা ধূপ শোকানো: জুতো বা দুর্গন্ধযুক্ত কিছু নাকে ধরা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, এটি এড়িয়ে চলুন।


৩. কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খিঁচুনি ২-৩ মিনিটের মধ্যে থেমে যায়। তবে নিচের পরিস্থিতিগুলোতে দেরি না করে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান:

১. যদি খিঁচুনি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়। ২. বাচ্চার শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা শরীর নীল হয়ে গেলে। ৩. যদি বাচ্চার উচ্চ জ্বর থাকে। ৪. একবার খিঁচুনি থামার পর জ্ঞান না ফিরতেই আবার খিঁচুনি শুরু হলে। ৫. খিঁচুনির পর বাচ্চা যদি অস্বাভাবিক আচরণ করে।

৪. বাচ্চাদের খিঁচুনি কেন হয়?

বাচ্চাদের খিঁচুনির সাধারণ কিছু কারণ হলো:

  • ফেব্রাইল সিজার (Febrile Seizure): অতিরিক্ত জ্বরের কারণে শিশুদের খিঁচুনি হতে পারে (সাধারণত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে)।

  • মৃগীরোগ বা এপিলেপসি: দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক সমস্যা।

  • মস্তিষ্কে সংক্রমণ: যেমন মেনিনজাইটিস।

  • শরীরে লবণের ভারসাম্যহীনতা: যেমন ক্যালসিয়াম বা গ্লুকোজ কমে যাওয়া।


উপসংহার বাচ্চার খিঁচুনি হলে আতঙ্কিত হওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি, কিন্তু সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা জানলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। বাচ্চার একবার খিঁচুনি হলে পরবর্তীতে কেন এমন হলো তা নিশ্চিত করতে অবশ্যই একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

About the Author

Picture of Dr. Afsana Haque Joty
Dr. Afsana Haque Joty

Dr. Afsana Haque Joty serves as a Senior Dental Surgeon at Tech Dental’s Mirpur branch, backed by over five years of clinical experience. An alumna of the University of Dhaka, she pursued advanced Post-Graduate Training (PGT) at Dhaka Dental College, specializing in Pediatric Dentistry as well as Oral & Maxillofacial Surgery. In addition to being BMDC registered (No. 11071), Dr. Joty has completed specialized training in Aesthetic Dentistry, ensuring she provides precise, high-quality dental care for patients of all ages.

Related Articles

A purple and white cylindrical tube of Cavic-C Plus effervescent tablets, featuring a lime-green cap and graphics, containing Calcium, Vitamin C, and Vitamin D3.
ক্যাভিক সি প্লাস: কাজ কি, খাওয়ার নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া – দাম ২০২৬

ক্যাভিক সি প্লাস হলো ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট গ্লুকোনেট, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট এবং ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) সমৃদ্ধ