মাথা ব্যথার কারণ
মাথা ব্যথা নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। কখনও সামান্য চিনচিনে ব্যথা, আবার কখনও প্রচণ্ড যন্ত্রণায় জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। আমরা অনেকেই না বুঝেই ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলি, কিন্তু ব্যথার পেছনের সঠিক কারণটি জানা থাকলে এর স্থায়ী সমাধান করা সহজ হয়।
১. সাধারণ বা টেনশন টাইপ মাথা ব্যথা
এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে কাজ করলে ঘাড় ও মাথার পেশি শক্ত হয়ে এই ব্যথা হয়। মনে হয় যেন মাথার চারদিকে কেউ শক্ত ফিতা দিয়ে বেঁধে রেখেছে।
২. মাইগ্রেন (Migraine)
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার একপাশে হয় এবং এটি বেশ তীব্র হতে পারে। এর সাথে বমি বমি ভাব, আলো বা শব্দের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা থাকতে পারে। বংশগত কারণ বা হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও মাইগ্রেন হতে পারে।
৩. সাইনাসের সমস্যা
যাদের সাইনাস ইনফেকশন বা অ্যালার্জি আছে, তাদের কপালে, গালের হাড়ের আশেপাশে বা চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। একে ‘সাইনাস হেডেক’ বলা হয়।
৪. পানিশূন্যতা ও অপর্যাপ্ত ঘুম
শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যায়, যা থেকে মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম না হলেও মাথা ধরার সমস্যা দেখা দেয়।
৫. অতিরিক্ত গ্যাজেট বা স্মার্টফোনের ব্যবহার
আমরা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি। একে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ বলা হয়। চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে কপালে ও চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হতে পারে।
৬. খাবারের অনিয়ম ও ক্যাফেইন
সকালে নাস্তা না করা বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, যা মাথা ব্যথার উদ্রেক করে। আবার অতিরিক্ত চা-কফি পানের অভ্যাস থাকলে, হঠাৎ চা-কফি না খেলেও মাথা ব্যথা হতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
অধিকাংশ মাথা ব্যথা সাধারণ কারণে হলেও কিছু লক্ষণ দেখলে অবহেলা করা উচিত নয়:
-
যদি হঠাৎ করে প্রচণ্ড তীব্র ব্যথা শুরু হয়।
-
ব্যথার সাথে যদি জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা ঝাপসা দেখার সমস্যা থাকে।
-
মাথায় আঘাত পাওয়ার পর যদি ব্যথা শুরু হয়।
-
কথা বলতে সমস্যা বা শরীরের কোনো অংশ অবশ মনে হলে।
পরামর্শ: প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে ইয়োগা বা মেডিটেশন করতে পারেন।


