কোমরের ব্যথা বা ব্যাক পেইন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার একটি। তবে যখন ব্যথাটি কোমরের ঠিক মাঝখানে না হয়ে দুই পাশে বা ফ্ল্যাঙ্ক (Flank) এলাকায় হয়, তখন এটি কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৬ সালে আমাদের অনিয়মিত জীবনযাপন এবং দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকার অভ্যাসের ফলে এই সমস্যা আরও বাড়ছে। আজকের আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ এবং এর থেকে মুক্তির উপায়।
কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ (Primary Keyword)
কোমরের দুই পাশে ব্যথার পেছনে সাধারণ পেশির টান থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ অঙ্গের জটিলতা থাকতে পারে। নিচে প্রধান কারণগুলো তুলে ধরা হলো:
১. কিডনির সমস্যা (Kidney Issues)
কোমরের দুই পাশে ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হলো কিডনির সমস্যা। যদি কিডনিতে পাথর (Kidney Stones) হয় বা কোনো সংক্রমণ (Infection) থাকে, তবে সেই ব্যথা কোমরের দুই পাশে বা পেছনের দিকে অনুভূত হয়। এই ব্যথা সাধারণত ঢেউয়ের মতো আসে এবং প্রস্রাবের সমস্যার সাথে যুক্ত থাকতে পারে।
২. পেশি বা লিগামেন্টের টান (Muscle Strain)
ভারী কিছু তোলা, হঠাৎ করে শরীর বাঁকানো বা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর ফলে কোমরের দুই পাশের পেশিতে টান লাগতে পারে। ২০২৬ সালে দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপের সামনে কুঁজো হয়ে বসে কাজ করা এই ধরণের পেশি ব্যথার অন্যতম বড় কারণ।
৩. মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা (Lumbar Disc Issues)
মেরুদণ্ডের নিচের দিকের ডিস্ক (L4-L5) যদি স্থানচ্যুত হয়, তবে সেই ব্যথা কোমরের দুই পাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ব্যথার পাশাপাশি পা ঝিঁঝিঁ করা বা অবশ হওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দেয়।
৪. ইউরিক অ্যাসিড ও ইনফ্লামেশন
শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে বা কোনো কারণে জয়েন্টে প্রদাহ হলে কোমরের পেশি ও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা হতে পারে। একে অনেক সময় বাতের ব্যথার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
৫. পানিশূন্যতা ও ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা
শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে পেশিতে খিঁচুনি বা ‘ক্র্যাম্প’ তৈরি হয়। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় ২০২৬ সালে পানিশূন্যতার কারণে অনেকেরই কোমরের দুই পাশে কামড়ানো ব্যথা অনুভূত হচ্ছে।
ব্যথার ধরণ দেখে কারণ চেনার উপায়
| ব্যথার ধরণ | সম্ভাব্য কারণ |
| হঠাৎ তীব্র ব্যথা যা তলপেটে ছড়িয়ে পড়ে | কিডনিতে পাথর |
| নড়াচড়া করলে বা ঝুকলে ব্যথা বাড়ে | পেশির টান বা মেরুদণ্ড |
| ব্যথার সাথে জ্বর বা প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া | কিডনি ইনফেকশন |
| বসে থাকলে ব্যথা বাড়ে কিন্তু হাঁটলে কমে | ডিস্কের সমস্যা |
কোমরের ব্যথা কমানোর আধুনিক উপায়
কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ যাই হোক না কেন, প্রাথমিক অবস্থায় নিচের নিয়মগুলো মেনে চললে আরাম পাওয়া সম্ভব:
১. পর্যাপ্ত পানি পান: কিডনি সচল রাখতে এবং পেশির নমনীয়তা বজায় রাখতে দিনে অন্তত ৩ লিটার পানি পান করুন।
২. সঠিক অঙ্গভঙ্গি (Posture): দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে প্রতি ৩০ মিনিট পর পর দাঁড়িয়ে স্ট্রেচিং করুন। চেয়ারে বসার সময় কোমরের পেছনে সাপোর্ট ব্যবহার করুন।
৩. গরম ও ঠান্ডা সেঁক: পেশির টানের জন্য গরম সেঁক এবং হঠাৎ লেগে যাওয়া ব্যথার জন্য বরফ বা ঠান্ডা সেঁক অত্যন্ত কার্যকর।
৪. কোর মাসল শক্তিশালী করা: নিয়মিত প্লাঙ্ক বা ব্রিজিং এর মতো ব্যায়াম কোমরের পেশিকে মজবুত করে এবং ব্যথা কমায়।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
যদি আপনার ব্যথার সাথে নিচের উপসর্গগুলো থাকে, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
-
প্রস্রাবের সাথে রক্ত গেলে বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে।
-
ব্যথার সাথে উচ্চ জ্বর থাকলে।
-
পা অবশ হয়ে গেলে বা হাঁটাচলায় সমস্যা হলে।
-
২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ব্যথা স্থায়ী হলে।
উপসংহার
কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ অনেক সময় সাধারণ মনে হলেও একে অবহেলা করা উচিত নয়। ২০২৬ সালের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় সঠিক সময়ে পরীক্ষা (যেমন: USG বা MRI) করলে এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব। আপনার মেরুদণ্ড ও কিডনির যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন।


