Table of Contents

ফ্ল্যাজিল ৪০০: কাজ কি, খাওয়ার নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও দাম ২০২৬

A white box and a silver blister pack of Flagyl 400 mg tablets. The packaging clearly displays the brand name "Flagyl" and the generic name "metronidazole" for oral use.

Table of Contents

ফ্ল্যাজিল ৪০০ (Flagyl 400) হলো মেট্রোনিডাজল (Metronidazole) জেনেরিক সমৃদ্ধ একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টি-প্রোটোজোয়াল ওষুধ। এটি মূলত সানোফি (Sanofi) বাংলাদেশ (বর্তমানে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনায়) কর্তৃক উৎপাদিত হয়। এটি শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং প্রোটোজোয়া জনিত সংক্রমণ, বিশেষ করে পেটের পীড়া বা আমাশয় নিরাময়ে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়।

সাম্প্রতিক Medical News Today এবং Healthline-এর গবেষণা অনুযায়ী, মেট্রোনিডাজল ব্যাকটেরিয়ার DNA গঠনে আঘাত হেনে তাদের বংশবিস্তার রোধ করে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানতে Mayo Clinic-এর তথ্য যাচাই করতে পারেন।

ফ্ল্যাজিল ৪০০ এর কাজ কি? (Indications in Bangla)

ক্লিনিক্যাল স্টাডি এবং চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী এর প্রধান ব্যবহারগুলো হলো:

  • আমাশয় ও ডায়রিয়া: রক্ত আমাশয় বা পরজীবী (Amoeba) জনিত পেটের ব্যথায় এটি অত্যন্ত কার্যকর।

  • দাঁতের ইনফেকশন: দাঁতের গোড়ায় ব্যথা, পুঁজ হওয়া বা মাড়ির ইনফেকশনে এটি বহুল ব্যবহৃত।

  • পাকস্থলীর আলসার: হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (H. pylori) নির্মূলে অন্যান্য ওষুধের সাথে এটি দেওয়া হয়।

  • স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সংক্রমণ: জরায়ু বা জননেন্দ্রিয়ের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া জনিত প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

  • অপারেশন পরবর্তী সংক্রমণ: অস্ত্রোপচারের পর অন্ত্র বা তলপেটে যাতে সংক্রমণ না হয়, সেজন্য এটি দেওয়া হয়।

  • পরজীবী জনিত সংক্রমণ: গিয়ারডিয়াসিস বা ট্রাইকোমোনিয়াসিসের মতো রোগের চিকিৎসায় এটি প্রথম সারির ওষুধ।

ফ্ল্যাজিল ৪০০ এর খাওয়ার নিয়ম (Dosage Guideline)

ফ্ল্যাজিল ৪০০ এর ডোজ সাধারণত সংক্রমণের ধরণ এবং তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

  • সাধারণ নিয়ম: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত ১টি ট্যাবলেট দিনে ৩ বার (প্রতি ৮ ঘণ্টা অন্তর) সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

  • সেবন পদ্ধতি: পেটের অস্বস্তি এড়াতে এটি ভরা পেটে বা খাবারের পর পর্যাপ্ত পানি দিয়ে সেবন করা সবচেয়ে ভালো।

  • মদ বা অ্যালকোহল সতর্কতা: এই ওষুধ চলাকালীন এবং কোর্স শেষ হওয়ার অন্তত ৩ দিন পর পর্যন্ত কোনো প্রকার অ্যালকোহল পান করা সম্পূর্ণ নিষেধ। অন্যথায় মারাত্মক বমি ও শারীরিক অস্বস্তি হতে পারে।

  • সম্পূর্ণ কোর্স: রোগের লক্ষণ সেরে গেলেও ওষুধের পূর্ণ কোর্স (সাধারণত ৫-৭ দিন) সম্পন্ন করুন। বিস্তারিত দেখুন Drugs.com-এ।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Side Effects)

ফ্ল্যাজিল ৪০০ সেবনে কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত সাময়িক:

  • মুখে ধাতব স্বাদ (Metallic Taste) অনুভব করা।

  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

  • ক্ষুধামন্দা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য

  • প্রস্রাবের রঙ গাঢ় বা লালচে হওয়া (এটি স্বাভাবিক এবং ক্ষতিকর নয়)।

  • মাথাব্যথা বা ঝিমুনি ভাব।

  • গুরুতর সতর্কতা: যদি স্নায়বিক সমস্যা যেমন হাত-পা কাঁপা বা কথা জড়িয়ে যাওয়া দেখা দেয়, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।


ফ্ল্যাজিল ৪০০ ও সিপ্রোসিন ৫০০: প্রধান পার্থক্যসমূহ

বৈশিষ্ট্য ফ্ল্যাজিল ৪০০ (Flagyl 400) সিপ্রোসিন ৫০০ (Ciprocin 500)
জেনেরিক নাম মেট্রোনিডাজল সিপ্রোফ্লক্সাসিন
ওষুধের ধরণ অ্যান্টি-প্রোটোজোয়াল ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক
প্রধান কাজ আমাশয়, পেটের সমস্যা ও দাঁতের ব্যথা টাইফয়েড ও মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI)
অ্যালকোহল সতর্কতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বিশেষ নিষেধাজ্ঞা নেই
সেবনের সময় খাবারের পর (ভরা পেটে) খাবারের আগে বা পরে যেকোনো সময়

ফ্ল্যাজিল এর দাম কত (জানুয়ারি ২০২৬ আপডেট)

২০২৬ সালের বাজার দর অনুযায়ী সানোফি/বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ফ্ল্যাজিল ব্র্যান্ডের বর্তমান মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

পণ্যের নাম স্ট্রেন্থ (Strength) প্রতি পিসের দাম (৳) স্ট্রিপের দাম (৳)
ফ্ল্যাজিল ৪০০ ৪০০ মি.গ্রা. ৫.৫০ টাকা ৫৫.০০ টাকা (১০টি)
ফ্ল্যাজিল ২০০ ২০০ মি.গ্রা. ৩.০০ টাকা ৩০.০০ টাকা (১০টি)
ফ্ল্যাজিল সাসপেনশন ৬০ মিলি বোতল ৬০.০০ টাকা ৬০.০০ টাকা (১টি)

বাজারের বর্তমান ও সঠিক দাম যাচাই করতে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের DGDA Portal ভিজিট করতে পারেন।

ফ্ল্যাজিল অন্যান্য ব্যান্ড ও দাম এর তালিকা

ব্র্যান্ডের নাম (Brand Name) প্রস্তুতকারক কোম্পানি (Manufacturer) আনুমানিক দাম (প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম)
Amodis 400 (অ্যামোডিস ৪০০) স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ৩.০০ টাকা
Metrodal 400 (মেট্রোডাল ৪০০) বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ৩.০০ টাকা
Filmet 400 (ফিলমেট ৪০০) ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ২.৫০ – ৩.০০ টাকা
Metril 400 (মেট্রিল ৪০০) ওপসোনিন ফার্মা লিমিটেড ২.৫০ টাকা
Metro 400 (মেট্রো ৪০০) রেনেটা লিমিটেড ৩.০০ টাকা
Amotril 400 (অ্যামোট্রিল ৪০০) অ্যারিস্টোফার্মা লিমিটেড ২.৫০ টাকা
Dirozyl 400 (ডিরোজিল ৪০০) রেডিয়ান্ট ফার্মাসিউটিক্যালস ৩.০০ টাকা
Metrozyl 400 (মেট্রোজিল ৪০০) হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ৩.০০ টাকা
Flamet 400 (ফ্লেমেট ৪০০) একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড ৩.০০ টাকা
Metcin 400 (মেটসিন ৪০০) পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ৩.০০ টাকা
সানোফি ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাজিল ৪০০ মিলিগ্রাম (Flagyl 400 mg) মেট্রোনিডাজল ওষুধের একটি সাদা বক্স।
ফ্ল্যাজিল ৪০০ মিলিগ্রামের (Flagyl 400 mg) ১৪টি ট্যাবলেটের একটি প্যাকেট।

 

ফ্ল্যাজিল ৪০০ মিলিগ্রাম (Flagyl 400 mg) মেট্রোনিডাজল ওষুধের একটি বক্স এবং সাথে একটি ওষুধের পাতা বা ব্লিস্টার প্যাক।
ফ্ল্যাজিল ৪০০ মিলিগ্রাম (Flagyl 400 mg) ওষুধের বক্স এবং ব্লিস্টার প্যাক।

ফ্ল্যাজিল ৪০০ সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ফ্ল্যাজিল ৪০০ (Flagyl 400) এর প্রধান কাজ কি?

উত্তর: এটি মূলত আমাশয়, ডায়রিয়া, দাঁতের ইনফেকশন এবং পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ দূর করতে কাজ করে।

২. ২০২৬ সালে ফ্ল্যাজিল ৪০০ এর বর্তমান দাম কত?

উত্তর: ২০২৬ সালের বাজার দর অনুযায়ী ফ্ল্যাজিল ৪০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেটের প্রতি পিসের দাম ৫.৫০ টাকা

৩. ফ্ল্যাজিল ৪০০ এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো কি কি?

উত্তর: সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মুখে ধাতব স্বাদ, বমি ভাব, প্রস্রাব গাঢ় হওয়া এবং মাথা ঘোরা।

৪. গর্ভাবস্থায় ফ্ল্যাজিল ৪০০ সেবন করা কি নিরাপদ?

উত্তর: গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস এটি এড়িয়ে চলা উচিত। তবে পরবর্তী সময়ে বিশেষ প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি সেবন করা যেতে পারে। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া এটি সেবন করবেন না।

৫. ফ্ল্যাজিল খাওয়ার সময় অ্যালকোহল পান করলে কি হয়?

উত্তর: ফ্ল্যাজিল চলাকালীন অ্যালকোহল পান করলে প্রচণ্ড বমি, বুক ধড়ফড় করা, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। একে ‘ডিসালফিরাম-লাইক রিঅ্যাকশন’ বলা হয়।

৬. এটি কি খালি পেটে না ভরা পেটে খেতে হয়?

উত্তর: পাকস্থলীর অস্বস্তি এবং বমি ভাব এড়াতে ফ্ল্যাজিল সব সময় ভরা পেটে বা খাবারের পর সেবন করা উচিত।

৭. ফ্ল্যাজিল ৪০০ কতদিন খেতে হয়?

উত্তর: সংক্রমণের ধরণ অনুযায়ী চিকিৎসক সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিন এটি সেবনের পরামর্শ দেন। কোর্স মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

৮. এটি কি দাঁতের ব্যথায় কাজ করে?

উত্তর: হ্যাঁ, মাড়ির ইনফেকশন বা দাঁতের গোড়ায় ব্যাকটেরিয়া জনিত ব্যথায় এটি অত্যন্ত কার্যকর। তবে এটি ব্যথানাশক নয়, বরং সংক্রমণের উৎস ধ্বংস করে।

৯. ডায়রিয়া হলে কি সরাসরি ফ্ল্যাজিল খাওয়া যাবে?

উত্তর: সব ডায়রিয়া ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয় না। যদি আমাশয় বা পরজীবী জনিত ডায়রিয়া হয়, তবেই এটি কাজ করবে। তাই নিজে নিজে সেবন না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি কেবলমাত্র জনসচেতনতা ও তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে রচিত। যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের আগে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ সেবন শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

About the Author

Picture of Dr. Afsana Haque Joty
Dr. Afsana Haque Joty

Dr. Afsana Haque Joty serves as a Senior Dental Surgeon at Tech Dental’s Mirpur branch, backed by over five years of clinical experience. An alumna of the University of Dhaka, she pursued advanced Post-Graduate Training (PGT) at Dhaka Dental College, specializing in Pediatric Dentistry as well as Oral & Maxillofacial Surgery. In addition to being BMDC registered (No. 11071), Dr. Joty has completed specialized training in Aesthetic Dentistry, ensuring she provides precise, high-quality dental care for patients of all ages.

Related Articles

A purple and white cylindrical tube of Cavic-C Plus effervescent tablets, featuring a lime-green cap and graphics, containing Calcium, Vitamin C, and Vitamin D3.
ক্যাভিক সি প্লাস: কাজ কি, খাওয়ার নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া – দাম ২০২৬

ক্যাভিক সি প্লাস হলো ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট গ্লুকোনেট, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট এবং ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) সমৃদ্ধ