প্রস্রাবে ইনফেকশন বা ইউটিআই (UTI) মূলত ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে হয়ে থাকে। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এর লক্ষণগুলো শুরুতে চিনে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
প্রস্রাবে ইনফেকশনের লক্ষণ (Common Symptoms)
ইউরিন ইনফেকশন হলে শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়:
-
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া (Burning Sensation): প্রস্রাব করার সময় প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হওয়া ইউটিআই-এর প্রধানতম লক্ষণ।
-
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ: বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা, কিন্তু বাথরুমে গেলে খুব সামান্য প্রস্রাব হওয়া।
-
অসম্পূর্ণ প্রস্রাবের অনুভূতি: প্রস্রাব করার পরেও মনে হওয়া যে পেট পরিষ্কার হয়নি বা আরও প্রস্রাব রয়ে গেছে।
-
প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন: প্রস্রাব ঘোলাটে (Cloudy), লালচে বা কালচে রঙের হওয়া। অনেক সময় প্রস্রাবের সাথে রক্তও যেতে পারে।
-
দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব: স্বাভাবিকের তুলনায় প্রস্রাবে তীব্র বা কটু গন্ধ পাওয়া।
-
তলপেটে বা পিঠে ব্যথা: তলপেটে ভারী ভাব বা পিঠের নিচের দিকে (কিডনির অবস্থানে) তীব্র ব্যথা হওয়া।
-
শারীরিক দুর্বলতা ও জ্বর: শরীর ম্যাজম্যাজ করা, বমি বমি ভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে কাঁপনি দিয়ে জ্বর আসা (যা ইনফেকশন কিডনিতে ছড়ানোর সংকেত হতে পারে)।
পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে লক্ষণের ভিন্নতা
-
মহিলাদের ক্ষেত্রে: মহিলাদের মূত্রনালী ছোট হওয়ায় তাদের ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাদের ক্ষেত্রে তলপেটে বা পেলভিক এরিয়াতে চাপের অনুভূতি বেশি হয়।
-
পুরুষদের ক্ষেত্রে: পুরুষদের ইউরিন ইনফেকশন হলে অনেক সময় প্রোস্টেট গ্রন্থিতে সমস্যা বা মলদ্বারের আশেপাশে অস্বস্তি হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার পাশাপাশি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে একজন ইউরোলজিস্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
-
তীব্র জ্বর এবং পিঠের একপাশে ব্যথা।
-
প্রস্রাবের সাথে স্পষ্ট রক্ত দেখা যাওয়া।
-
বমি বা বমি বমি ভাব।
-
ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো ক্রনিক রোগ থাকলে।


