খিঁচুনি বা ‘Seizure’ হওয়াটা বেশ ভীতিজনক একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে—সেটা যার হচ্ছে তার জন্য যেমন, যারা পাশে থাকছেন তাদের জন্যও। বড়দের ক্ষেত্রে খিঁচুনি হওয়া মানেই যে সেটা সবসময় ‘মৃগী রোগ’, এমনটা কিন্তু নয়। এর পেছনে আরও অনেক জটিল বা সাধারণ কারণ থাকতে পারে।
আজকের ব্লগে আমরা জানবো বড়দের খিঁচুনি হওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলো কী কী।
বড়দের খিঁচুনি কেন হয়? (প্রধান কারণসমূহ)
মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোর মধ্যে যখন হঠাৎ অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি হয়, তখনই খিঁচুনি দেখা দেয়। বড়দের ক্ষেত্রে এর পেছনে নিচের কারণগুলো সবচেয়ে বেশি দায়ী হতে পারে:
১. স্ট্রোক (Stroke)
বয়স্কদের ক্ষেত্রে খিঁচুনির অন্যতম প্রধান কারণ হলো স্ট্রোক। মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হলে বা রক্তক্ষরণ হলে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা থেকে খিঁচুনি হতে পারে।
২. মাথায় আঘাত (Head Injury)
কোনো দুর্ঘটনা বা পড়ে যাওয়ার কারণে মাথায় গুরুতর আঘাত পেলে মস্তিষ্কের কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটে। অনেক সময় আঘাত পাওয়ার সাথে সাথেই খিঁচুনি হয়, আবার কখনো আঘাত পাওয়ার কয়েক মাস বা বছর পরেও খিঁচুনি শুরু হতে পারে।
৩. মস্তিষ্কে সংক্রমণ বা ইনফেকশন
মস্তিষ্ক বা মেরুদণ্ডের ঝিল্লিতে সংক্রমণ (যেমন: Meningitis বা Encephalitis) হলে খিঁচুনি হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে খিঁচুনির সাথে তীব্র জ্বর এবং মাথাব্যথা থাকে।
৪. রক্তে শর্করার তারতম্য (Metabolic Issues)
রক্তে গ্লুকোজ বা সুগার হঠাৎ খুব কমে গেলে (Hypoglycemia) বা সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হলে বড়দের হঠাৎ খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৫. মস্তিষ্কের টিউমার
মস্তিষ্কে টিউমার বা কোনো অস্বাভাবিক পিণ্ড তৈরি হলে সেটি স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে খিঁচুনি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
৬. নেশাজাতীয় দ্রব্য বা ঔষধের প্রভাব
অতিরিক্ত মদ্যপান ত্যাগ করার ফলে (Alcohol Withdrawal) অথবা নির্দিষ্ট কিছু ঔষধের (যেমন: ঘুমের ঔষধ বা কড়া ব্যথানাশক) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে খিঁচুনি হতে পারে।
কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?
খিঁচুনি হলে ঘাবড়ে না গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। নিচের লক্ষণগুলো দেখলে অবিলম্বে হাসপাতালে নিতে হবে:
-
যদি খিঁচুনি ৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলে।
-
একবার খিঁচুনি হওয়ার পর জ্ঞান না ফিরতেই আবার খিঁচুনি শুরু হওয়া।
-
খিঁচুনির সময় যদি শ্বাসকষ্ট হয়।
-
যদি খিঁচুনির সময় ব্যক্তি মাথায় চোট পান বা গর্ভবতী হন।
একটি জরুরি কথা: কারো খিঁচুনি হলে তার মুখে চামচ, কাঠি বা আঙুল দেবেন না। এতে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাকে কেবল নিরাপদ জায়গায় কাত করে শুইয়ে দিন।


